বিসিএস-ই কেন?

প্রস্তুতি

Total Views: 727

চারদিক এখন বিসিএসময়। অনার্স প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা এখন বিসিএস নিয়ে ব্যস্ত।

এমনকি যিনি কোনদিন বিসিএস দেননি বা কোনদিন দিতে পারবেন না, তিনিও বিসিএস এর কথা শুনলে কেমন জানি একটা অনুভব করেন। কী আছে বিসিএসে? চলুন জেনে নেয়া যাক।

এক) দেশে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী চাকরিতে যখন অনার্স পাসের রেজাল্ট ও সার্টিফিকেট ছাড়া আবেদন করা যায় না, তখন শুধু অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েই আপনি বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যান্য চাকরিতে যখন বিবিএ/এমবিএ বা ভালো গ্রেড চাওয়ার কারণে আপনি আবেদনই করতে পারেন না, সেখানে এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স ও মাস্টার্স এই চারটা পরীক্ষার যেকোন দুটি বা তাঁর বেশি পরীক্ষার তৃতীয় শ্রেণি না থাকলে আপনি বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন। এমনকি পাস কোর্সে ডিগ্রী পাস করে মাস্টার্স করলেই আপনি বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন। ও আরও একটা কথা শুনুন। আপনি পালি, সংস্কৃত বা অন্য যেকোন বিষয়েই পড়েন না কেন আপনি বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন। ঠান্ডা মাথায় একবার ভাবুন। এটা কম কীসে?

দুই) অনেক চাকরির সার্কুলারে অভিজ্ঞতা চাওয়ার কারণে যখন ছুয়েই দেখা যায়না, আবেদন করা তো দূরের কথা, বিসিএস তখন ফ্রেস গ্রাজুয়েটদের আশার আলো। বিসিএস দিতে কোন চাকরির অভিজ্ঞতা লাগে না। এমনকি অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করে ক্যাডার হয়ে অনেকে প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ইত্যাদি ক্যাডারে চাকরি করছেন।

তিন) আমি মনে করি দেশের অন্যান্য চাকরির পরীক্ষার তুলনায় বিসিএসে দুর্নীতি নাই বললেই চলে। পিএসসির বর্তমান চেয়ারম্যান স্যারের মতে, আপনি যোগ্য হলে কোনো রেফারেন্স ছাড়া বা তদবির ছাড়াই বিসিএসে সুযোগ পাবেন। যোগ্যতা ছাড়া এখানে আসার সুযোগ নেই। অনেকের মনে হতে পারে, কেউ হয়তো রেফারেন্স বা তদবিরের মাধ্যমে বিসিএসে আসতে পেরেছেন বা পারছেন। আসলে তা নয়। রেফারেন্স বা তদবিরের সুযোগ এখন নেই। আমার কেউ পরিচিত ছিলেন না। সিভিল সার্ভিস কিংবা পিএসসিতে। আমি বিনা তদবিরে এসেছি। সেই সুযোগ এখনও আছে। আমার বাড়ি সুনামগঞ্জের পাড়াগাঁয়ে। আমিও বিসিএসের মাধ্যমে এখানে এসেছি, দেশের জন্য কাজ করছি। তাহলে আপনি কেন নন?

চার) বিসিএসের চাকরিতে অন্যান্য চাকরির চেয়ে সামাজিক মর্যাদা বেশি। প্রশ্ন আসতে পারে, কেন বেশি? আপনি হয়তো জানেন সরকারী বিভিন্ন পদের মর্যাদা অনুসারে একটা তালিকা আছে। যার নাম ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স। বিসিএসের চাকরি করলে আপনি একদিন না একদিন ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্সে স্থান পাবেনই। শুধু তাই না, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে একটা সময় আপনি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেতে পারবেন।

পাঁচ) অন্যান্য চাকরির চেয়ে বিসিএসের চাকরিতে স্কলারশিপ বেশি। আপনি স্কলারশীপ ও শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে যেতে পারবেন। সুতরাং চাকরিতে যোগ দেয়ার পরও পড়ালেখার সুযোগ থাকছে। চাকরিতে থেকেই আপনি আপনার মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারবেন।

ছয়) বিসিএসের চাকরিতে প্রেষন, লিয়েন ইত্যাদি সুবিধা আছে। তাতে বৈধ উপায়ে মোটামুটি ভালো একটা আর্থিক সুবিধা পাবেন। আরে ভাই, সুবিধা পরে, আগে বলেন প্রেষন ও লিয়েন কী? সরকার তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এক অফিসের কাউকে অন্য আরেক অফিসে নিয়োগ দেয়। এটাই প্রেষন । র‍্যাবে যারা কাজ করেন তাঁরা সবাই প্রেষনে কাজ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মধ্যে পুলিশ ৪৪%, ডিফেন্স ৪৪%, আনসার ৫%, বিজিবি ৫%, কোস্ট গার্ড ১%, প্রশাসন ১%। আর লিয়েন এক ধরণের ছুটি। সরকারী কর্মকর্তারা এই ছুটি নিয়ে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

সাত) বিসিএসের চাকরির মাধ্যেমে সরাসরি দেশসেবায় অংশগ্রহণ করা যায়। সাদিক স্যারের মতে, আপনি মেধাবী হলে, দেশের স্বার্থে সরাসরি কাজ করার ইচ্ছে আপনার থাকলে অব্যশই বিসিএস বেছে নিতে পারেন। এই চাকরিতে তরুণরা সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান।

আট) জব সিকিউটির দিক থেকেও বিসিএস সবার শীর্ষে। কারণ বিসিএসের চাকরি গেজেটেড চাকরি। কথা হলো, গেজেটেড কী? রাষ্ট্রপতি কোন অফিসিয়াল পেপারে স্বাক্ষর করলেই তা গেজেটেড হয়ে যায়। আর বিসিএস কর্মকর্তাদের নিয়োগদাতা মহামান্য রাষ্ট্রপতি।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক স্যারের একটা কথা দিয়ে এই লেখার সমাপ্তি টানছি। বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই। একটা সময় যারা আমাদের বটমলেস বাস্কেট বলেছে, তারাও এখন বলছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল। এখন যারা মনে করেন এই ট্রানজিশনাল সময় বা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করা দরকার, যারা দেশের ঋণ শোধ করতে চান, তাদের প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত বিসিএস।

সৈকত তালুকদার

৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

সিনিয়র অফিসার, বিকেবি

আবেদনের শেষ তারিখঃ 2030-12-18

লোকেশনঃ বাংলাদেশ

Source: online