যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন

Total Views: 723

  •  

যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

-  Thu Dec 05, 2019 

যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
ছেদচিহ্নঃ বাক্যাদি উচ্চারণের সময় বিরামের জন্য যে চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, তাই যতি/ছেদচিহ্ন/বিরামচিহ্ন।

বাংলা বিরামচিহ্নঃ

কমা/পাদচ্ছেদ (,)
• বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখাবার জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন: সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
• পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ এক সঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন: করিম, রহিম ও আলম তিন ভাই।
• সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন: করিম, বাড়ি যাও।
• জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খন্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন: কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্ব পরিচিত।
• উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন: করিম বলল, “বাড়ি যাও।”
• মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর ‘কমা’ বসবে। যেমন: ১৫ বৈশাখ, শনিবার, ১২৯৫ সন।
• বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন: ৭৭, বাবুবাজার রোড, ঢাকা-১০০০।
• নামের পরে ডিগ্রীসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন: মহম্মদ আইনুর রহমান, এম, বি, এ, পি-এইচ ডি।

সেমি কোলন (;)
কমা অপেক্ষা বেশি-বিরতির প্রয়োজন হলে, সেমি কোলন বসে। যথা: সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ আমরা; এ মায়ার বাঁধন কি সত্যিই দুচ্ছেদ্য?

দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (।)
বাক্যের পরিসমাপ্তি বোঝাতে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করতে হয়। যথা: বাড়ি যাও।

বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!)
হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে এবং সম্বোধন পদের পরে (!) চিহ্নটি বসে। যথা: আহা! কী চমৎকার পাখি।

কোলন (:)
একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- সভায় সাব্যস্ত হলঃ রুবেল নতুন সভাপতি হবেন।

ড্যাস চিহ্ন (-)
যৌগিক ও মিশ্র বাক্য পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন: তোমরা দনিদ্রের উপকার কর-এতে তোমাদের সম্মান যাবে না-বাড়বে।

কোলন ড্যাস (:-)
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন এক সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। যেমন- পদ পাঁচ প্রকারঃ- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-)
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়। যেমন: হাত-পা, বাবা-মা।

ইলেক/লোপ চিহ্ন (’)
কোনো বর্ণ বিশেষের লোপ বোঝাতে বিলুপ্ত বর্ণে জন্য (’) লোপচিহ্ন দেওয়া হয়।
যেমন: মাথার ‘পরে জ্বলছে রবি (’পরে=ওপরে)
পাগড়ি বাঁধা যাচ্ছে কা’রা? (কা’রা = কাহারা)

উদ্ধরণ চিহ্ন (” “)
বক্তার প্রত্যেক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। যথা: রহিম বলল, “দরিদ্রের উপকার করবে।”
ব্র্যাকেট বা বন্ধনী চিহ্ন(), {}, []
এই তিনটি চিহ্নই গণিত শাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে প্রথম বন্ধনীটি বিশেষ ব্যাখ্যামূলক অর্থে সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন- তিনি ছিলেন পারস্যের (বর্তমানে ইরান) সভাকবি।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
১. লেখার সময় বিশ্রামের জন্য আমরা যে চিহ্নগুলো ব্যবহার করে থাকি, সেগুলোকে কি বলে? (কলেজ শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পরীক্ষাঃ১০)
- বিরাম চিহ্ন
২. দুটি পদের সংযোগস্থলে কি বসে? (কলেজ শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পরীক্ষাঃ১০)
- হাইফেন
৩. কোনটি কোলন? (৩৩তম বিসিএস)
- :
৪. বাক্যে সেমিকোলন থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়? (স্কুল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন পরীক্ষাঃ ১০)
- ১ বলার দ্বিগুণ সময়
৫. নিচের কোনটিতে বিরামচিহ্ন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি? (২৩তম বিসিএস)
- ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
৬. প্রথম বন্ধনী সাহিত্যে কি অর্থে ব্যবহৃত হয়? (উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসারঃ০৫)
- ব্যাখ্যামূলক অর্থে
৭. চারটি বিরাম চিহ্নের মধ্যে পূর্ণচ্ছেদ কোনটি? (মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী প্রধান শিক্ষকঃ০৩)
- দাঁড়ি
৮. বাংলা বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়, এমন বিরাম চিহ্নের সংখ্যা - (সহকারী থানা শিক্ষা অফিসারঃ১০)
- ৪টি
৯. হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে কোন চিহ্ন বসে? (স্কুল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন পরীক্ষাঃ ১০)
- বিস্ময়

 

আবেদনের শেষ তারিখঃ na

লোকেশনঃ বাংলাদেশ

Source: বাংলাদেশ প্রতিদিন