পর্ব -০১-০২: বাংলা বানান - শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ

বাংলা সাহিত্য

Total Views: 217

পর্ব -১: বাংলা বানান - শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ

জেনে রাখুন , কাজে লাগবে

১। শুধু/শুধুমাত্র
অশুদ্ধ- শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না।
শুদ্ধ- শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।

২। পরা/পড়া
পরা=পরিধান করা
পড়া= পাঠ করা, পতিত হওয়া, পতন হওয়া,

তিনি কাপড় পরেন, লুঙ্গি পরেন, মোজা পরেন।
তিনি বই পড়েন। কাগজটি পড়ছে।

৩। স্ব/স ( স্ব-নিজ ;স-সহ)
অশুদ্ধ- আপনাকে স্বপরিবারে দাওয়াত দিলাম । (নিজ পরিবারে)
শুদ্ধ- আপনাকে সপরিবারে দাওয়াত দিলাম। (পরিবারসহ)

৪। নিরপরাধী/নিরপরাধ
অশুদ্ধ – তিনি নিরপরাধী ব্যক্তি।
শুদ্ধ- তিনি নিরপরাধ ব্যক্তি।/ তিনি নিরপরাধী।

অশুদ্ধ – নিরাপরাধী লোক কাকেও ভয় করে না।
শুদ্ধ - নিরাপরাধ লোক কাকেও ভয় করে না।

৫। অশ্রু/ অশ্রুজল (অশ্রু= চোখের জল)
অশুদ্ধ- তার অশ্রুজল আমাকে ব্যথিত করেছে।
শুদ্ধ- তার অশ্রু আমাকে ব্যথিত করেছে।

৬। অধিক/ অধিকতর
অশুদ্ধ- তিনি আমার চেয়ে অধিকতর চালাক।
শুদ্ধ- তিনি আমার চেয়ে অধিক চালাক। ( চেয়ে মানেই তুলনা)

৭। সাক্ষী / সাক্ষ্য
অশুদ্ধ- তিনি আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন।
শুদ্ধ – তিনি আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন।

৮। শ্রেষ্ঠ/ শ্রেষ্ঠতর
অশুদ্ধ- জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।( ডাবল কম্পারেটিভ হবে না; অপেক্ষা এবং শ্রেষ্ঠতর)
শুদ্ধ - জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ।

৯। পরিচিত/ পুরাতন
অশুদ্ধ- সে আমার পুরাতন পরিচিত।
শুদ্ধ – সে আমার পরিচিত। ( পরিচিতরাই পুরাতন হয়)

১০। সবিনয়/ সবিনয় পূর্বক
অশুদ্ধ- সবিনয় পূর্বক নিবেদন এই যে,......
শুদ্ধ – সবিনয় নিবেদন এই যে ......

১১। শালী
অশুদ্ধ- বাংলাদেশ সমৃদ্ধশালী দেশ।
শুদ্ধ – বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশ / বাংলাদেশ সমৃদ্ধিশালী দেশ।

১২। বঁধু= বন্ধু
বধূ = বউ।

কেউ কেউ বলে থাকেন যে বন্ধুর দাম বউয়ের চেয়েও বেশি। এজন্য বন্ধুর কপালে বিশ্বাসের তিলক পড়িয়ে দেন। তাই বন্ধু অর্থে ‘বঁধু’ বানান ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু বউয়ের পোড়া কপাল, কপালে কিছুই নাই।

১৩। শ্বশুর এবং শাশুড়ি ; বানান দুটি লক্ষ্য করুন।

শ্বশুর বানানে ‘শ’ এর নিচে ‘ব’ যুক্ত আছে। কিন্তু শাশুড়ি বানানে তা নেই।
শ্বশুর বানানের শেষে ‘র’ আছে কিন্তু শাশুড়ি বানানে শেষে ‘ড়’ আছে।

১৪। নেই/নাই
নেই- চলিত ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ তারা বাড়ি নেই।
নাই- সাধু ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ তাহারা বাড়ি নাই।

বাংলা বানান- পর্ব: ২ - স এবং ষ এর গণ্ডগোল

বাংলা ব্যাকরণ

১) সন্ধিতে বিসর্গযুক্ত ই-কার বা উ-কার-এর পরে ক খ প ফ থাকলে বিসর্গ স্থানে 'ষ' হয় । যেমন- আবিঃ +কার = আবিষ্কার (ই-কার), পরিঃ +কার = পরিষ্কার , নিঃ+ফল=নিষ্ফল, নিঃ+পাপ=নিষ্পাপ (ই-কার),বহিঃ+কার=বহিষ্কার(ই-কার), দুঃ+কর=দুষ্কর(উ-কার)।

খেয়াল করুন সবগুলো শব্দের প্রথমাংশে ই-কার অথবা উ-কার রয়েছে।

এমন আরও শব্দ-

জ্যোতিষ্ক, নিষ্কৃতি, নিষ্পত্তি নিষ্কণ্টক,দুষ্কর্ম, দুষ্কৃতি, দুষ্কার্য, ভ্রতুষ্পুত্র ।

২) কিন্তু 'অ' কিংবা 'আ' বর্ণের পর বিসর্গ থাকলে বিসর্গ স্থানে 'স' হবে । যেমন-

পুরঃ+কার= পুরস্কার(অ-কার), তিরঃ+কার=তিরস্কার, নমঃ+কার= নমস্কার। ভাঃ+কর= ভাস্কর(আ-কার)

এভাবে তেজস্কর, মনস্কামনা ।

৩) সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না । যেমন-

অগ্নিসাৎ ধূলিসাৎ ভূমিসাৎ ।

সবাই তো জানেন, শফিক মোরশেদ মানেই কৌশলে কার্যোদ্ধার।

আসেন কৌশল জেনে নেই।

সূত্রঃ সকল বিদেশি শব্দে ‘ষ’ বর্জন করা হবে।

যেমনঃ স্টেশন, ষ্টেশনারি ইত্যাদি।

এভাবে, পুরস্কার = পুরঃ + অস্কার ( অস্কার বিদেশি শব্দ, সুতরাং অস্কার বানানে ‘স’ হবে। অতএব, পুরস্কার বানানে ‘স’ হবে।

{চলচিত্রে অস্কার পুরস্কার দেওয়া হয়}

তিরস্কার = তিরঃ + অস্কার { অস্কার বিদেশি শব্দ তাই অস্কার বানানে ‘স’ , অতএব, তিরস্কার বানানে ‘স’ হবে। }

এভাবে,

নমস্কার =নমঃ+ অস্কার

আর, বাকি সকল শব্দে ‘ষ’ হবে।

এভাবে মনে রাখুন আশা করি কাজে লাগবে

সংগৃহিত 

আবেদনের শেষ তারিখঃ na

লোকেশনঃ বাংলাদেশ

Source: online